জব্বারের বলীখেলা—টেরাকোটার ম্যুরালে ফুটে উঠলো শতবর্ষের ঐতিহ্য

চট্টগ্রামে ১৯০৯ সালে প্রথম কুস্তি প্রতিযোগিতা বা মল্লযুদ্ধের প্রবর্তন করেন জমিদার আব্দুল জব্বার সওদাগর। তিনি ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী এবং একজন ধনী ব্যক্তি। মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে এই আয়োজন করা হয়। সেই থেকে ধীরে ধীরে এটি ‘জব্বারের বলীখেলা’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এভাবে কালের বিবর্তনের এই প্রতিযোগিতা শতবছর পেরিয়ে এখনও ঠিক আগের মতোই যেন উন্মাদনা ছড়িয়ে যায়।

প্রতিবছর ১২ বৈশাখ এই বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়। সঙ্গে বসে বৈশাখী মেলাও। এবার নগরীতে বসছে প্রতিযোগিতার ১১৭তম আসর। তবে এবারের আসরকে আরও স্মরণীয় করতে লালদীঘির মোড়ে বসানো হয়েছে ‘জব্বারের বলীখেলা’র ম্যুরাল। পোড়ামাটির সেই কারুকাজে দেখা গেছে, দুই মল্লযোদ্ধা লড়াই করছেন, আর নিচে দাঁড়িয়ে দর্শকরা তা উপভোগ করছেন। এই মোড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জব্বারের গোল চত্বর’।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ম্যুরালের উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

নবনির্মিত ম্যুরালে টেরাকোটার ত্রিভুজ আকৃতির এ চত্বরের একদিকে রাখা হয়েছে বলীখেলার প্রতিকৃতি, একপাশে হাতুরির প্রতিকৃতি দিয়ে ন্যায় বিচারের পীঠস্থান এবং অপর পাশে দুই হাতে শেকল ভাঙ্গার প্রতিকৃতি দিয়ে লালদীঘির ইতিহাস লেখা হয়েছে।

উদ্বোধনের আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বলীখেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আব্দুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল।

সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র বলেন, আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, তারা আমার কাছে অনুরোধ করেছিল এ চত্বরকে আব্দুল জব্বার চত্বর হিসেবে ঘোষণা করার। আমি তাদের কথা দিয়েছিলাম। আজকে সেটার উদ্বোধন করছি। আমরা এখানে এমন একটি ম্যুরাল নির্মাণ করেছি যা বলীখেলা, বীর চট্টলার সংগ্রামী ঐতিহ্য এবং আদালতে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির চেতনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। চট্টগ্রামের এ বলি খেলার ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানাতে হবে, এই ভাবনা থেকে এই ম্যুরালটি নির্মাণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে আব্দুল জব্বারের ঐতিহাসিক বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা। শনিবার বলীখেলার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

খেলা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করবেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

আগামী ২৬ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা থাকায় রোববার ভোরেই মেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও কমিটির সদস্য আলী হাসান রাজুর পরিচালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেল, আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল, সদস্য খোরশেদ আনোয়ার বাবুল, আকতার আনোয়ার চঞ্চল, জাহাঙ্গীর আলম, মো. সেলিম, আবদুল করিম, হারুন জামান, ইসমাইল বালি, এ এম আবদুল্লাহ আকতার, মো. বেলাল।

Related posts

সন্দ্বীপে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যারিয়ার ও কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার “দক্ষতার দিগন্ত” অনুষ্ঠিত।

সন্দ্বীপ ছাত্র ফোরাম ঢাকার ইফতার মাহফিল ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে শ্রমিক কল্যাণের নেতা কর্মীদের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে : এস এম লুৎফর রহমান